March 23, 2026, 4:32 pm

সংবাদ শিরোনাম
রাস্তায় ‘মরণফাঁদ’—রংপুরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা সড়কের দায় কার? ঈদ যাত্রায় জনভোগান্তি নিরসনে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান শ্রম পরিদর্শন: লাইসেন্সে অস্বচ্ছতা, বোনাসে নীরবতা রসিক-এর পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন-আইনজীবী মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সার নিয়ে দুর্নীতি, কালোবাজারী বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের সার পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবিতে রংপুরে কৃষক সংগঠনের বিক্ষোভ শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? বদর দিবস উপলক্ষে গঙ্গাচড়ায় আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রংপুর জেলার নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পরিচিতি সভা শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? ঈদের আগে হোটেল শ্রমিকদের বোনাস সংকটের ভেতরের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প

ভোট কারচুপির কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

লোকমান ফারুক, রংপুর
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের হলরুমে দুপুরের আলো তখনো পুরোপুরি নরম হয়নি। সারি সারি চেয়ার, ইউনিফর্মে পুলিশ, প্রশাসনের নথিভর্তি টেবিল-সবকিছুর মাঝখানে সংক্ষিপ্ত কিন্তু স্পষ্ট ভাষায় একটি বার্তা দিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। “এবার কোথাও কেন্দ্র দখল হলে, কেউ ছাড় পাবে না।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। তাঁর কণ্ঠে উত্তেজনা ছিল না, ছিল না অতিরিক্ত আবেগও—ছিল দায়িত্বের ভাষা। তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসন দৃশ্যমান থাকবে এবং ভোট কারচুপির কোনো সুযোগ থাকবে না। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যে বারবার ফিরে এসেছে একটি শব্দ—নিরপেক্ষতা। তাঁর ভাষায়, “সবার সহযোগিতায় এবারের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। প্রশাসন ও সরকারি বাহিনী নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।”

এই আশ্বাস শুধু শহরের কেন্দ্রের জন্য নয়—উত্তরের সীমান্ত এলাকাগুলোর কথাও আলাদাভাবে উল্লেখ করেন তিনি। জানান, সেখানে থাকবে বাড়তি সতর্কতা।
সরকারের প্রস্তুতির তালিকাও তুলে ধরা হয়। সহিংসতা, অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’র কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের জন্য দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭০০ বডি ক্যামেরা। ব্যবহৃত হবে ড্রোন ও সুরক্ষা অ্যাপ। এরপরও কেউ আইন ভাঙতে চাইলে—”ছাড় দেওয়া হবে না।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। স্বাগত বক্তব্য দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানসহ বিভাগের আট জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার ও ওসিরা।

হলরুমের ভেতরে বক্তব্যগুলো ছিল শৃঙ্খলিত, পরিমিত। বাইরে তখন সাধারণ মানুষের কৌতূহল—নির্বাচন কি সত্যিই আগের মতোই থাকবে, নাকি কিছু বদলাবে? বডি ক্যামেরা আর ড্রোন কি মানুষের আস্থার অভাব পূরণ করতে পারবে?
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা থেকেই যায়—নির্বাচনের স্বচ্ছতা কি শুধু প্রযুক্তি আর কঠোর ঘোষণায় নিশ্চিত হয়, নাকি তার আসল পরীক্ষা হয় প্রয়োগের মুহূর্তে?

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর